সব কিছু
facebook channelkhulna.tv
খুলনা মঙ্গলবার , ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দাবী "ত্রান নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চাই | চ্যানেল খুলনা

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দাবী “ত্রান নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চাই

ফকির শহিদুল ইসলামঃ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক ঝুঁকিতে পঞ্চম অবস্থানে উঠে আসা বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ উপকূলজুড়ে ষাটের দশকে নির্মিত বেড়িবাঁধ বর্তমানে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। বছর বছর প্রবলমাত্রার ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যার কারণে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধের মূল কাঠামো। মেরামত, সংস্কার, পুনর্নির্মাণ খাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও পরিকল্পিত টেকসই বাঁধ ব্যবস্থাপনা আজও গড়ে ওঠেনি। এতে বন্যা, জোয়ার, জলোচ্ছ্বাসে নোনাপানি উপচে প্রতি বছরই প্লাবিত হচ্ছে বহু জনবসতি, ফসলি জমি। গত পাঁচ দশকের বিপর্যয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে উপকূলের আড়াই কোটির বেশি মানুষ।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দিন দিন বাড়তে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ভয়াবহ রূপ নেবে। এ পরিস্থিতিতে তারা উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাণিসম্পদ রক্ষায় স্থায়ী-টেকসই বাঁধসহ জোয়ার-ভাটার পানি নিয়ন্ত্রণকারী পোল্ডার ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণের  শুরু হয়। সংস্কার ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে ২০১৩ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প (সিইআইপি) হাতে নেয় সরকার। জমি অধিগ্রহণের পর ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারিতে বেড়িবাঁধ ও সুইচগেট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ৬২ কিলোমিটার বেড়িবাাঁধের প্রায় ৬০ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। 

সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্পানে উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁধের প্রয়োজন  ত্রনের চেয়েও বেশী। উপকূলীয় অঞ্চলে একটি জনপ্রিয় শ্লোগান হচ্ছে, “ত্রান নয়,টেকসই বেড়িবাঁধ চাই। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এই সত্যকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে। ইতিপূর্বে, ঘূর্ণিঝড় সিডর উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছিল। পরবর্তীতে পাউবো উপকূল বাঁধ রক্ষা প্রকল্প  সিইআইপি প্রকল্প গ্রহন করে । সিইআইপি প্রকল্প উপকূলে আশানুরূপ ফল লাভে ব্যর্থ হয়েছে। সিইআইপি প্রকল্পের কর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা এবং পাউবোর মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীদের মনিটরিং না থাকায়  সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাব মোকাবেলা করতে পারেনি । সিইআইপি প্রকল্পের অব্যবস্থাপনা এবং অতি মাত্রায় কনসালটেন্ট নির্ভরতার কুফল চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ মেরামতের চেয়ে অগুরুপূর্ণ বাঁধ এলাকায় কাজ করায় আম্পান এবং দেশের নদ নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে উপকূল বাঁধ রক্ষা প্রকল্প  (সিইআইপি প্রকল্প) প্রকৃতপক্ষে কোন ভুমিকা রাখতে ব্যার্থ হয় । সঙগত কারনেই বেড়িবাঁধ এলাকা প্লাবিত হয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুক্ষিন হয় । পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পাউবো এখনো সিইআইপি প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজের বাস্তব ভিক্তিক কর্মকান্ড এবং আর্থিক বরাদ্ধের প্রকৃত অগ্রগতি খতিয়ে দেখলে পরিস্কার হবে উপকূল বাঁধ রক্ষা প্রকল্প  (সিইআইপি)র বাঁধ সংশ্লিষ্ঠ এলাকার মানুষের কল্যানে কতটুকু ভুমিকা রাখছে । শত শত কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায় । বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচিত উপকূল বাঁধ রক্ষা প্রকল্প  (সিইআইপি)র কাজের মুল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা । কেননা স্থানীয়া দির্ঘদিন অভিযোগ করে আসছে সিইআইপি উপকুলীয় বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপুর্ণ পয়েন্টে কাজ না করায় বার বার তাদের ঘরবাড়ি ফসলী জমি প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুক্ষিন হচ্ছে । স্থানীয় সংসদ বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে এলে স্থানীয়রা এ অভিযোগ করেন ।

অপরদিকে করোনা বিপর্যয়ের দোহাই দিয়ে পাউবোর উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্ধ কমানো হলে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞমহল উদ্দেগ প্রকাশ করছেন ।  উল্লেখ করা যেতে পারে যে, দেশের খাদ্য উৎপাদনে পাউবোর সেচ প্রকল্প এবং বাঁধগুলো ব্যাপক ভূমিকা রাখে। মৌলভীবাজারের মনু নদী প্রকল্প, চাঁদপুরের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প এবং চাঁদপুর ইরিগেশন প্রকল্প(সিআইপি), ফেনীর মুহুরী প্রকল্প, বরিশালের সাতলা-বাগদা প্রকল্প, তিস্তা সেচ প্রকল্প, জিকে প্রকল্প, দিনাজপুরের ডেপা সেচ প্রকল্প, বেড়া সেচ প্রকল্প, বরিশাল ইরিগেশন প্রজেক্ট (বিআইপি) সহ আরো অনেকগুলো সেচ প্রকল্পের কারণে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয় যা খাদ্য সংকট মোকাবিলায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি দেশের হাওড় অঞ্চলের জেলাগুলোতে পাউবোর বাঁধের কারণেই বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদিত হয়ে থাকে। এছাড়া, পাবনার চলনবিল এবং গোপালগঞ্জের বর্ণি বাওড় প্রকল্পের মতো কতোগুলো প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদিত হয়ে থাকে। এগুলো খাদ্যশস্যের প্রাকৃতিক গোডাউন হিসেবে বিবেচিত। এই সমস্ত প্রকল্প চলমান রাখতে হলে সন্নিহিত এলাকার নদী তীরের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সম্প্রতি দেশের বন্যা ও ভারি বর্ষনে নদ নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করছে । এ অবস্থায় জরুরী ভিক্তিতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় প্রকল্পের অর্থ বরাদ্ধ করা ।

অভিজ্ঞমহল করোনাকালে কোনক্রমেই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্ধ না কমানোর আহবান জানিয়েছেন। তারা আরো মত প্রকাশ করেছেন যে, আসন্ন বাজেটে পাউবোর উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি মেরামত ও সংস্কার খাতে অধিক বরাদ্ধ অত্যন্ত জরুরী। তা না হলে দেশে খাদ্য সংকটের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

সংবাদ প্রতিদিন আরও সংবাদ

৭০ নারীর অ্যাকাউন্টে জমা অর্থের তদন্ত চলছে

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দাবী “ত্রান নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চাই

কয়রার বাগালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে রেজাউল ইসলাম এগিয়ে

খালিশপুর আলমনগের দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবাসহ যুবতী আটক

সুন্দরবন উপকূলের মানুষের প্রাণশক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি : জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল

মাদরাসায় নিয়োগে অর্ধকোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

চ্যানেল খুলনা মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
It’s An Sister Concern of Channel Khulna Media
© ২০১৮ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | চ্যানেল খুলনা.টিভি
যোগাযোগঃ কেডিএ এপ্রোচ রোড (টেক্সটাইল মিল মোড়), নিউ মার্কেট, খুলনা।
ঢাকা অফিসঃ ৬৬৪/এ, রোড-২৩, খিলগাও, ঢাকা-১২১৯।
ফোন- 09696-408030, 01704-408030, ই-মেইল: channelkhulnatv@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্তির জন্য আবেদিত।