সব কিছু
facebook channelkhulna.tv
খুলনা মঙ্গলবার , ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
জিয়া হল ভেঙে তৈরি হচ্ছে ২২ তলা মাল্টি কমপ্লেক্স | চ্যানেল খুলনা

কেসিসি’র ২৮৬৭ কোটি টাকার ১৪টি নতুন প্রকল্প

জিয়া হল ভেঙে তৈরি হচ্ছে ২২ তলা মাল্টি কমপ্লেক্স

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, মহানগরীর আর্থিক উন্নয়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকার সমস্যা হ্রাসকরণের লক্ষ্যে কেসিসি বানিজ্যিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহন করেছে। সেই লক্ষে নগরীর শিববাড়ী মোড়ে পরিত্যক্ত জিয়া পাবলিক হল ভেঙে একই স্থানে তৈরি করা হবে আধুনিক পাবলিক হল কমপ্লেক্স। ২২ তলা বিশিষ্ট পাবলিক হল ভবন নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১২ কোটি টাকা। আধুনিক পাবলিক হল কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাল্টে যাবে খুলনা মহানগরীর দৃশ্যপট।
খুলনা নগরীকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় এবং কেসিসি মেয়র আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেক ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের প্রচেষ্টায় ২,৮৬৭ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে কেসিসি’র সূত্রে জানা গেছে।
কেসিসি সূত্রে জানা যায়, নগরীর বড় কোনো সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম বা কনসার্ট আয়োজনের কথা উঠলেই স্থান নির্বাচনের জন্য প্রথমেই আসত জিয়া পাবলিক হলের নাম। কিন্তু ১৯৯৩ সালে উদ্বোধনের কয়েক বছরের মধ্যে পাবলিক হলটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। হলটি পরিত্যক্ত থাকায় অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান সংকট দেখা দিয়েছে। খুলনা বড় ধরনের কোনো অনুষ্ঠান করার স্থান না থাকায় আশির দশকের শেষ দিকে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে ১ দশমিক ৭৫ একর জমির ওপর জিয়া হলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৯২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর এর উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। হলটি নির্মাণে চার ধাপে ব্যায় করা হয় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সমাবেশের জন্য হলটি দুই ভাগে বিভক্ত। বড় ধরনের সমাবেশের জন্য হলরুমে আসনের ব্যবস্থা ছিল ১ হাজার ৬৫টি। অন্যদিকে ছোটখাটো সমাবেশের জন্য সেমিনার কক্ষের আসন ছিল ১৯০ টি। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর জিয়া হল ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর পরিত্যক্ত হলটি ভেঙে একই স্থানে একটি ২০ তলা বিশিষ্ট আধুনিক সিটি সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় খুলনা সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু ২৫০ কোটি টাকা স্থাপনা নির্মাণ ব্যয় করা সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ণে তখন সাড়ে মেলেনি। ফলে মুখ থুবড়ে পড়ে সিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পটি।
কেসিসি’র প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির-উল-জব্বার জানান, ২৫ তলা ফাউন্ডেশনসহ ৮১৭৫৪.৬৪ বর্গ মিটারের ২২ তলা বিশিষ্ট পাবলিক হল ভবন নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১২ কোটি ১৬ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা। যেখানে ভবনের প্রতি বর্গ মিটারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৪শত ১৫ টাকা। যার মধ্যে ইন্টেরিওয়ার ডেকোরেশন ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ১০ লক্ষ টাকা, সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনার স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, অভ্যন্তরীন রাস্তা এবং ড্রেন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, ফার্নিচার সরবারহে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, সোলার সিস্টেম (নেট মিটারিং) ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা এবং ল্যান্ডস্কেপিং ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি টাকা। ২২ তলা বিশিষ্ট পাবলিক হলের বেজমেন্ট লেভেলে থাকবে ২ টি গাড়ি পার্কি এলাকা। নিচতলায় থাকবে ব্যাংক, লবি (বাইরের হলঘর) অভ্যর্থনা কক্ষ, অপেক্ষগার। ১ম তলা হতে ৫ম তলা পর্যন্ত থাকবে বানিজ্যিক স্পেস, ৬ ষ্ঠ তালায় থাকবে ফুড কোর্ট ও সিনেপ্লেক্স। ৭ম তলায় থাকবে অডিটোরিয়াম, সেমিনার কক্ষ ও সুইমিংপুল। ৮ম তলায় থাকবে কমিউনিটি সেন্টার। ৯ম থেকে ২১ তম তলায় থাকবে অফিস স্পেস এবং ২২ তলায় থাকবে রেস্টুরেন্ট ও হেলিপ্যাড। তবে পাবলিক হল ভবনটিতে থাকছে না কোন আবাসন সুবিধা।
খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ের পাবলিক হলটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত পড়ে আছে। নিম্ন মানের কাজের কারণে ১৯৯৩ সালে উদ্বোধনের কয়েক বছরের মধ্যে পাবলিক হলটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন হলটির নির্মাণ ব্যয় ছিল ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। যার পুরোটাই পানিতে গিয়েছে বলা যায়। তৎকালীন এর নির্মাণ কাজের সাথে যারা জড়িত ছিল তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। নগরীর শিববাড়ি মোড় একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। সেই সাথে শহরে আমাদের কোন পাবলিক হল নেই, নেই বিনোদনের জায়গা। নগরীর একটি মাল্টিপারপাস পাবলিক হল নির্মাণ হলে অবশ্যই নাগরিক সুবিধা বাড়বে। নগরায়ণের ক্ষেত্রে আধুনিক মানের এ ধরনের স্থাপনা এখন সময়ের দাবি।
খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ও প্রকল্পটির সম্ভ্যাব্যতা যাচাই কমিটির প্রধান ড. মাহফুজ উজ দারেন প্রকল্পের বিষয়ে বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আমাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন আমাদেরকে সব ধরণের তথ্য দিয়েছে। তবে আমরা এখন প্রকল্পটির ডাটা সংগ্রহ করছি এবং সম্ভব্যতা যাচাইয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি। আমাদের সম্পূর্ণ স্ট্যাডি শেষ হলে আমরা এ প্রকল্পটির বিষয়ে বলতে পারবো। তাই এখন কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
খুলনা চেম্বার এন্ড কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র পরিচালক কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডন পাবলিক হল কমপ্লেক্স প্রকল্পের বিষয়ে বলেন, যেকোন নগরীর জন্য একটি আধুনিক পাবলিক হল কমপ্লেক্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তাবিত আধুনিক পাবলিক হল কমপ্লেক্স বা সিটি সেন্টার নির্মিত হলে বাড়বে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আয়, মহানগরীর আর্থিক উন্নয়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকার সমস্যার সমাধান হবে অনেকটাই। সেই সাথে নগরবাসী পাবে একই ছাদের নিচে অডিটরিয়াম, কমিউনিটি সেন্টার, রেস্টুরেন্ট, মার্কেট, বাণিজ্যিক স্পেস, অফিস, তারকা হোটেল, হেলিপ্যাড, সিনেপ্লেক্সসহ বিনোদনের আধুনিক সব সুবিধা।
খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু পাবলিক হল প্রকল্প সম্পর্কে বলেন, খুলনার উন্নয়নে পরিকল্পনাটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। পরিত্যক্ত জিয়া হল ভেঙে সেখানে আধুনিক পাবলিক হল কমপ্লেক্স নির্মিত হলে অবশ্যই নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নগরবাসী সব ধরণের সুবিধা পাবে। তবে আমাদের দাবি, কাউকে ছোট করে যেন পাবলিক হল কমপ্লেক্স নির্মাণ করা না হয়। বিএনপি সরকারের আমলে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে নির্মিত জিয়া হলের নাম যেন পরিবর্তিত না হয়। কারণ এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এটা খুলনাবাসী ভালভাবে নেবে না।
খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা বলেন, জিয়া হল ভেঙে সেখানে ২২ তলা আধুনিক পাবলিক হল কমপ্লেক্স নির্মাণের সিটি কর্পোরেশনের পরিকল্পনাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। খুলনা নগরীতে সামাজিক, সংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের কোন ধরনের অনুষ্ঠান বা সভা-সেমিনার করার জন্য বড় কোন জায়গা নেই। তাই শহরের প্রাণকেন্দ্র শিববাড়ি মোড়ে দৃষ্টিনন্দন পাবলিক হলটি নির্মিত হলে সভা-সেমিনার ও বিনোদনের উপযুক্ত জায়গা পাবে নগরবাসী। সেই সাথে এই বানিজ্যিক কমপ্লেক্স নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে খুলনাবাসীর বেকার সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখবে এবং বৃদ্ধি পাবে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আয়। আমরা প্রত্যাশা করি প্রকল্পটি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক একনেকে অনুমোদিত হয়ে দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।
কেসিসি’র সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত ২৮৬৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন। এই ব্যয়ের মধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন ৫৭৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার জোগান দেবে, বাকী অর্থ নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে বাংলাদেশ সরকার। উন্নয়ন প্রকল্পের খসড়া বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর খসড়াটি জাতীয় অথনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। একনেকে অনুমোদন মিললে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকার সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়ন। এই অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি করা, নগর শিশুদের শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়ন কার্যক্রম, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষতি মোকাবেলায় জলাশয় সংরক্ষন, খেলারমাঠ, উন্মুক্ত স্থান, পার্ক নির্মাণ, প্রকল্প এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন, শহরের সৌন্দর্যবৃদ্ধি ও দুর্ঘটনা রোধ করণ, শহরের অর্থনেতিক কার্যক্রম সম্প্রসারন ও উন্নয়ন।

https://channelkhulna.tv/

বিশেষ প্রতিবেদন আরও সংবাদ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগরে অবাধে চলছে মাদক সেবন

ডুমুরিয়ায় চিংড়িতে বিষাক্ত অপদ্রব্য পুশ, আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ ডিপো মালিক

খাজনা- সে যুগ এ যুগ

৬০ টাকার উমেদার বাবু এখন ‘জমিদার বাবু’

সুন্দরবনে চিংড়ি জালে সর্বনাশ!

তালায় নিরাপদ পানি সঙ্কটে দুঃসহ জীবন হাজার হাজার পরিবারের

চ্যানেল খুলনা মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
DMCA.com Protection Status
উপদেষ্টা সম্পাদক: এস এম নুর হাসান জনি
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: শেখ মশিউর রহমান
It’s An Sister Concern of Channel Khulna Media
© ২০১৮ - ২০২২ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | চ্যানেল খুলনা.বাংলা, channelkhulna.com, channelkhulna.com.bd
যোগাযোগঃ কেডিএ এপ্রোচ রোড (টেক্সটাইল মিল মোড়), নিউ মার্কেট, খুলনা।
ঢাকা অফিসঃ ৬৬৪/এ, খিলগাও, ঢাকা-১২১৯।
ফোন- 09696-408030, 01704-408030, ই-মেইল: channelkhulnatv@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্তির জন্য আবেদিত।