সব কিছু
facebook channelkhulna.tv
খুলনা সোমবার , ২৩শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন কিশোর নিহতের ঘটনায় বেরিয়েছে নানা তথ্য | চ্যানেল খুলনা

দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন কিশোর নিহতের ঘটনায় বেরিয়েছে নানা তথ্য

চ্যানেল খুলনা ডেস্কঃযশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক) তিন কিশোর বন্দি খুনের ঘটনায় নতুন তথ্য বেরিয়ে আসতে শুর করেছে। বৃহস্পতিবার এই কেন্দ্রে কোন সংঘর্ষ নয়, দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ঠান্ডা মাথায় পিটিয়ে হত্যা করেছে তিন কিশোরকে। আহত অবস্থায় অন্তত ১৪ কিশোর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা পেলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য স্বীকার করেনি। তবে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই ঘটনাকে একপক্ষীয় বলে মন্তব্য করে গোমর ফাঁস করে দিয়েছেন। আর আহত চিকিৎসাধীন কিশোরেরা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে সাংবাদিকদের কাছে।
১৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর রাতে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) যান। গভীর রাত পর্যন্ত তারা সেখানে ঘটনা বোঝার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে খুলনা রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাহিদুল ইসলামও রাতে আসেন। তিনি রাত তিন টায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র ( বালক) থেকে বের হন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বন্দি চুয়াডাঙ্গার পাভেল সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তাদের জানায়, গত ৩ আগস্ট কেন্দ্রের হেড গার্ড (আনসার সদস্য) নূর ইসলাম তার চুল কেটে দিতে বলে। সেদিন কেন্দ্রের প্রায় দু’শো জনের চুল কেটে দেওয়ায় আমার হাত ব্যথা ছিল। এ কারণে তার চুল পরে কেটে দেওয়া হবে জানালে সে ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে কয়েকজন কিশোর তাকে মারধর করে। বিষয়টি হেড গার্ড অফিসে জানায়। সেখানে নূর ইসলাম অভিযোগ করেন, কিশোররা মাদক সেবন করে তাকে মারধর করেছে। কিন্তু কিশোররা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে, তারা মাদক সেবন করেনি।’
পাভেলের বক্তব্য, ওই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় আমাদের অফিসে ডাকা হয় এবং এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। আমরা ঘটনার আদ্যোপান্ত জানানোর এক পর্যায়ে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ, প্রবেশন অফিসার মুশফিকসহ অন্য স্যাররা আমাদের বেধড়ক মারপিট করে। আহত আরেক কিশোর নোয়াখালীর বন্দি জাবেদ হোসেন জানায়, ‘স্যাররা ও অন্য বন্দি কিশোররা আমাদের লোহার পাইপ, বাটাম দিয়ে কুকুরের মতো মেরেছে। তারা জানালার গ্রিলের ভেতর আমাদের হাত ঢুকিয়ে তা বেঁধে মুখের ভেতর কাপড় দিয়ে এবং পা বেঁধে মারধর করে। অচেতন হয়ে গেলে আমাদের কাউকে রুমের ভেতর আবার কাউকে বাইরে গাছ তলায় ফেলে আসে। জ্ঞান ফিরলে ফের একই কায়দায় মারপিট করে।
যশোরের বসুন্দিয়া এলাকার বন্দি ঈশান বলছে, নিহত রাসেল আর আমি একই রুমে থাকতাম। আগামী মাসেই তার (রাসেলের) জামিনে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। স্যারদের বেদম মারপিট আর চিকিৎসা না পেয়ে সে মারা গেছে।
সে অভিযোগ করে বলে, প্রবেশন অফিসার মারধরের সময় বলে, তোদের বেশি বাড় বেড়েছে। জেল পলাতক হিসেবে তোদের বিরুদ্ধে মামলা করে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে। আহতরা সাংবাদিক ও পুলিশের সংশ্লিষ্টদেও জানায়, মারধর করে তাদের এখানে-সেখানে ফেলে রাখা হয়। পরে একজন করে মারা গেলে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর রাত ৮ টা থেকে ১১টার মধ্যে ৪ দফায় আহতদের হাসপাতালে কেন্দ্র (বালক) এর প্রবেশন অফিসার মুশফিক আহমেদ দাবি করেন, সম্প্রতি কেন্দ্রে বন্দি কিশোরদের দুই গ্রুপের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এরই জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রড ও লাঠির আঘাতে মারাত্মক জখম হয় ১৭ কিশোর। প্রাথমিকভাবে উন্নয়ন কেন্দ্রের তাদের চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চলে। তবে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে নাইম, পারভেজ ও রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। রাতেই জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রবেশ করে শিশুদের উপর নির্যাতনে ব্যবহৃত হকিষ্টিক ও লাঠিসোটা উদ্ধার করে থাকায় জমা রেখেছে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।
এদিকে,এই প্রসঙ্গে খুলনা রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম নাহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার দিনগত গভীর রাতে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যু পথযাত্রীরা কেউ মিথ্য কথা বলে না। হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের কথার সত্যতা ও যৌক্তিকতা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা অপরাধ নিয়ে কাজ করি, তারা ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পরে বিষয়টি অবহিত হয়েছি। যে কারণে মূল ঘটনা জানা জটিল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, মামলা হবে। সেই মামলার বাদী যে কেউ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রসবতরা বা তাদের স্বজন অথবা তৃতীয় কোনো পক্ষ; সর্বশেষ কাউকে না পাওয়া গেলে পুলিশ তো রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবারের এ ঘটনা একপক্ষীয়।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে বের হন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। এসময় তিনি বলেন, ‘কী কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। আমরা তদন্ত কমিটি করে দেবো। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের মারপিটের ঘটনায় তিন ‘বন্দি’ কিশোর নিহত হয়। এসময় আহত হয়েছে অন্তত ১৭ জন। আহতদের পুলিশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
জেনারেল হাসপাতালের ডা. অমিয় দাশ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তিন কিশোর মারা যায়। কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া বলা যাবে না।
নিহতরা হলো, খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান রাব্বি (১৮), রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ১১৮৫৫৩, বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার মহিপুর গ্রামের আলহাজ নুরুল ইসলাম নুরুর ছেলে রাসেল ওরফে সুজন (১৮) রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ৭৫২৪ এবং একই জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার তালিপপুর পূর্বপাড়ার নানু প্রামাণিকের ছেলে নাঈম হোসেন (১৭), রেজিস্টেশন নম্বর ১১৯০৭। নাঈম হোসেন ধর্ষণ এবং রাব্বি হত্যা মামলার আসামি ছিল।
দেশে ছেলেদের জন্য দেশে দুটি কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে। যার একটি গাজীপুরের টঙ্গিতে, অন্যটি যশোর শহরতলির পুলেরহাটে। এ কেন্দ্র মোট বন্দির সংখ্যা ২৮০ জন। যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রায়ই অঘটন ঘটে। লাশ উদ্ধার, মারপিটের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে অনিয়ম জেঁকে বসেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর আগে একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি এই তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য একগুচ্ছ সুপারিশ করেছিল। কিন্তু অবস্থার যে উন্নতি হয়নি; বরং অবনতি হয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( বিশেষ) তৌহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদেরন জানান, তিন কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রের দশ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আনসার সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিশ অফিসে আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে। তবে এখনো কাউকে আটক দেখানো হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করার আগে তাদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করতে চাননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে নিহত তিন বন্দির লাশের ময়না তদন্ত সম্পুন্ন হয়েছে৷ খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে নিহত রাব্বির স্বজনরা হাসপাতালে এসেছেন। ময়না তদন্ত শেষে নিহতদের স্বজনদের কাছে লাখ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোতয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডাইরীভূক্ত করা হয়েছে। তবে মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করা হয়নি বলে ডিউটি অফিসার নুর জাহান জানিয়েছেন।

https://channelkhulna.tv/

সংবাদ প্রতিদিন আরও সংবাদ

৭০ নারীর অ্যাকাউন্টে জমা অর্থের তদন্ত চলছে

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দাবী “ত্রান নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চাই

কয়রার বাগালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে রেজাউল ইসলাম এগিয়ে

খালিশপুর আলমনগের দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবাসহ যুবতী আটক

সুন্দরবন উপকূলের মানুষের প্রাণশক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি : জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল

মাদরাসায় নিয়োগে অর্ধকোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

চ্যানেল খুলনা মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
DMCA.com Protection Status
উপদেষ্টা সম্পাদক: এস এম নুর হাসান জনি
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: শেখ মশিউর রহমান
It’s An Sister Concern of Channel Khulna Media
© ২০১৮ - ২০২২ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | চ্যানেল খুলনা.বাংলা, channelkhulna.com, channelkhulna.com.bd
যোগাযোগঃ কেডিএ এপ্রোচ রোড (টেক্সটাইল মিল মোড়), নিউ মার্কেট, খুলনা।
ঢাকা অফিসঃ ৬৬৪/এ, খিলগাও, ঢাকা-১২১৯।
ফোন- 09696-408030, 01704-408030, ই-মেইল: channelkhulnatv@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্তির জন্য আবেদিত।