নগরের রায়েল মহল এলাকা থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল, ১টি শর্টগান ও ৭ রাউন্ড গুলিসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ৮ রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং ৭ রাউন্ড শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ভোররাতে এগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময় ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হরিণটানা থানার ওসি খায়রুল বাশার।
কেএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আহসান হাবীব জানান, হরিণটানা থানা পুলিশ বুধবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে জানতে পারে যে, দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্য গোলা-গুলি হয়। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। হরিণটানা থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে জনৈক খাইরুল সরদারকে (২৭) সনাক্ত করে।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, হরিণটানা থানাধীন বাঙ্গালবাড়ি এলাকায় তাদের দুই গ্রুপের মধ্য গোলা-গুলি হয় এবং অস্ত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় তার হাতে থাকা পিস্তলের গুলি অসর্তকতার কারণে ফায়ার হয়ে তার বাম হাতের তালুতে লেগে জখমপ্রাপ্ত হয়। সে সন্ত্রাসী ফারুক হোসেনের গ্রুপে ছিল। তখন তাকে নিয়ে হরিণটানা থানা পুলিশ গোয়েন্দা পুলিশ সহযোগে ৩ এপ্রিল সকাল থেকে বাঙ্গালীবাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। গুলিবিদ্ধ খাইরুল অস্ত্র বিক্রেতা ফারুক হোসেনের বাড়ি দেখিয়ে দিলে ফারুক হোসেনের বাড়ি তল্লাশী করা হয়। এ সময় ফারুককে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কাছে অস্ত্র আছে বলে স্বীকার করে। এক পর্যায়ে তার দেখানো মতে তার রান্না ঘরে থাকা জ্বালানি কাঠের স্তুপের মধ্য থেকে ২ টি বিদেশী পিস্তল, তার বসত ঘরের মধ্য থাকা টিনের বাক্সে রাখা একটি শটগান এবং শটগানের ৭ রাউন্ড কার্তুজ, ঘরের ভেতরের দেয়ালের উপর থেকে পিস্তলের ৮ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১ রাউন্ড এমটি কার্তুজ, তার বসত ঘরের খাটের নিচ থেকে ১টি বড় রামদা উদ্ধার করা হয়।
সেইসাথে অবৈধ অস্ত্র বেচাকেনার কাজে ব্যবহৃত ১টি রানার মোটর সাইকেল এবং ১টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা যায় উদ্ধারকৃত শটগান বাংলাদেশ পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বিভিন্ন সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ এবং দু্স্কৃতৃকারীদের কাছে অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচা করে বলে স্বীকার করে। তাদের পিসিপিআর যাচাই করে খাইরুলের বিরুদ্ধে ১টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযান এখনো চলমান।